• সিলেট, রাত ১১:৪৯, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

​জুড়ীতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল ৮৬ লাখ টাকার রাস্তা ও গাইডওয়াল

admin
প্রকাশিত জুন ৭, ২০২৬
​জুড়ীতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল ৮৬ লাখ টাকার রাস্তা ও গাইডওয়াল

​জুড়ীতে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ধসে পড়ল ৮৬ লাখ টাকার রাস্তা ও গাইডওয়াল

মোঃ নজরুল ইসলাম বড়লেখা মৌলভীবাজার।।

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তা টেকসইকরণ প্রকল্পের অধীনে একটি রাস্তার নির্মাণকাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে ধসে গেছে এবং গাইডওয়াল ভেঙে পড়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীদের আশঙ্কা, দ্রুত রাস্তাটি যথাযথভাবে সংস্কার করা না হলে এটি জনসাধারণের উপকারের চেয়ে চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

​সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার জায়ফরনগর ইউনিয়নের শাহাপুর মাদ্রাসার নিকট হতে শাহাপুর আব্দুল মতিনের বাড়ির নিকট পুরাতন এইচবিবি রাস্তা পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তা এইচবিবিকরণ (ডাবল ইটসলিং) প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে হেরিং বোন বন্ডকরণ শীর্ষক (২য় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় ‘স্কাইলাইন এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজের দায়িত্ব পায়। গত ৪ এপ্রিল স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

​কিন্তু উদ্বোধনের পর কাজ চলমান থাকা অবস্থাতেই রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানের ইটসলিং এলোমেলো হয়ে ধসে যায় এবং সদ্য নির্মিত গাইডওয়াল ভেঙে পড়ে। এতে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

​সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, গাইডওয়াল নির্মাণে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়নি এবং বালুর পরিমাণ কম দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তাটি যথাযথভাবে ড্রেসিং না করায় এবং অনিয়মের আশ্রয় নেওয়ায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই নিরাপত্তা দেয়াল ধসে পড়েছে, ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ইটসলিং দেবে গেছে।

​এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। কাজ এখনো চলমান থাকায় ভেঙে পড়া এবং দেবে যাওয়া অংশগুলো দ্রুত নতুন করে মেরামত করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী প্রকৌশলী অভিজিৎ দে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাস্তার কিছু অংশে ডোবা থাকায় সেখানে সিসি ঢালাইয়ের ওপর গাইডওয়াল করা হয়েছিল। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বাসিন্দারা বাড়ির বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা না রাখায়, পানি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এতে নিচের মাটি সরে গিয়ে গাইডওয়াল ও রাস্তার এই ক্ষতি হয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনানুযায়ী দ্রুতই ভাঙ্গা অংশ মেরামত করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।