বিশেষ প্রতিনিধি:সিলেট বিভাগে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে প্রাণঘাতী হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে আরও ২৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ২ শিশু। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট নিশ্চিত হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫৩ জনে।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত হাম ও রুবেলা রোগবিষয়ক সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভাগে নিশ্চিত শনাক্ত ৭৫৩ জন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সুনামগঞ্জ জেলায় ৩৫১ জন। এছাড়া সিলেট জেলায় ২৪৮ জন, মৌলভীবাজারে ৭৫ জন এবং হবিগঞ্জে ৭৯ জন (যার মধ্যে ২ জন রুবেলা আক্রান্ত) শনাক্ত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। তাদের মধ্যে একজন সিলেট নগরের মণিপুরীপাড়ার ১০ মাস বয়সী অসিন্দন দাশ এবং অপরজন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার হেমতপুর এলাকার ১ বছর ৬ মাস বয়সী জান্নাত।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামে মোট ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৬ জন এবং হামের উপসর্গ বা সন্দেহভাজন হিসেবে মারা গেছে ১১২ জন। জেলাভিত্তিক মৃত্যুতে শীর্ষে রয়েছে সুনামগঞ্জ (৫২ জন)। এছাড়া সিলেটে ৪১ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে পুরো বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৩০৩ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে উপসর্গ নিয়ে ১১৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৪ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫১ জনসহ বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে বাকীরা ভর্তি হন।
হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাধীন রোগীর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল (১৩৬ জন) ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (৭৫ জন)। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২৬ জন এবং সিলেটের অন্যান্য বেসরকারি ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাকি রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শিশুদের দ্রুত টিকাদান নিশ্চিত করা, আক্রান্তদের অবিলম্বে যথাযথ চিকিৎসার আওতায় আনা এবং সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে ।