• সিলেট, বিকাল ৪:৫৭, ১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্প: প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

admin
প্রকাশিত মে ৯, ২০২৬
বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং প্রকল্প: প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়মের পাহাড়

সিলেট৭১নিউজ::বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং কার্যক্রম ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে গুরুতর অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং আর্থিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মাঠপর্যায়ে কাজের চেয়ে কাগজে-কলমে অগ্রগতি বেশি দেখানো এবং ড্রেজিংয়ের মাটি পুনঃস্থাপনে অনিয়মের কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নৌপথের স্থায়ী সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের বহু নৌপথে শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা সংকট কাটাতে সরকার প্রতি বছর বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়ে বিল উত্তোলন করা হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের মতো কারিগরি খাতে পরিকল্পনা ও তদারকির অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় ব্যয় বাড়লেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এই পুরো ব্যবস্থার কারিগরি নেতৃত্বে থাকায় প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম এখন প্রশ্নের মুখে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আরিচা-কাজীরহাট, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া এবং মোংলা-ঘষিয়াখালীসহ গুরুত্বপূর্ণ রুটে ড্রেজিংয়ে চরম গাফিলতি হচ্ছে। উত্তোলিত বালু নদীর তীরের নিরাপদ দূরত্বে ফেলার নিয়ম থাকলেও বাস্তবে তা কাছাকাছি ফেলা হচ্ছে। ফলে জোয়ার বা বৃষ্টির পানিতে সেই বালু আবার নদীতে মিশে যাচ্ছে। এতে একই স্থানে বারবার ড্রেজিং দেখিয়ে সরকারি অর্থের অপচয় করা হচ্ছে। এছাড়া ড্রেজিং খাতের বড় ব্যয় ‘জ্বালানি’ নিয়ে ব্যাপক নয়ছয় হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার বন্ধ থাকলেও জ্বালানি খরচ দেখানো হয় এবং নিজস্ব ড্রেজার থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চমূল্যে ড্রেজার ভাড়া করা হচ্ছে। ড্রেজার মেরামত ও যন্ত্রাংশ ক্রয়ের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। পুরনো যন্ত্রাংশ সংস্কার করে নতুন হিসেবে বিল দেওয়া এবং প্রয়োজনের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বিআইডব্লিউটিএ’র ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী পদায়ন, প্রকল্প বণ্টন এবং ঠিকাদারি সুবিধা নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রধান প্রকৌশলীর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলে বা ভিন্নমত পোষণ করলে কর্মকর্তাদের দূরবর্তী স্থানে বদলি বা পদোন্নতি বঞ্চিত করার মতো প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ড্রেজিং শুধু মাটি কাটা নয়; এটি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। সঠিক প্রবাহ বিশ্লেষণ ছাড়া ড্রেজিং করলে তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় লোকসান। কেবল প্রকল্প ব্যয় বাড়ালেই হবে না, প্রয়োজন দক্ষ নেতৃত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি। এ জায়গায় নেতৃত্বের দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। এসব অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের দপ্তরে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এমনকি বিষয়ের উল্লেখ করে খুদে বার্তা (SMS) পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ড্রেজিং খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নৌপথ ব্যবহারকারী ও সাধারণ মানুষের দাবি, ব্যক্তি নয় বরং পুরো ব্যবস্থার সংস্কার জরুরি। একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিগত কয়েক বছরের ড্রেজিং প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে তারা মনে করেন।