ফকিরবাজার বরুদল নদীর ব্রিজ: ৪ বছরেও শেষ হয়নি কাজ, নির্মাণেই অনিয়মের অভিযোগ
মোঃ নজরুল ইসলাম বড়লেখা মৌলভীবাজার।
বড়লেখা উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ফকিরবাজারে বরুদল নদীর ওপর ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ ও দুই পাশে ২২০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার চুক্তি থাকলেও চার বছরেও শেষ হয়নি প্রকল্পটির কাজ। নির্মাণ কাজে অনিয়ম-দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে ইতোমধ্যে ভেঙে পড়ছে রাস্তা, ব্লক এবং দেবে গেছে গাইড ওয়াল। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ঠিকাদার ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে ব্রিজটি ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এলাকাবাসী দ্রুত ব্রিজটি ঝুঁকিমুক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ব্রিজ ও সংযোগ সড়কের ডিজাইনে মারাত্মক ত্রুটি রাখা হয়েছে। ব্রিজের সামনের সংযোগ সড়কের প্রশস্ততা কমিয়ে মাত্র সাড়ে ১২ ফুট করা হয়েছে। ফলে ব্রিজ থেকে নেমেই সরু রাস্তায় খাড়া টার্ন নিতে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, বড়লেখা উপজেলার বর্ণি, সুজানগর, তালিমপুর ও দাসেরবাজার ইউনিয়নের মানুষের স্বল্প সময়ে সিলেট বিভাগীয় শহরে যাতায়াত সহজ করতে দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০২১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরুদল নদীর ওপর ৬৬ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। প্রকল্পে ব্রিজের উভয় পাশে সংযোগ সড়কসহ আরও ১২০ মিটার রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ৬ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭০ টাকার এ প্রকল্পের কাজ পায় ঢাকার রমনা থানার সিদ্দেশ্বরী এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জিলানি ট্রেডার্স।
কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৭ নভেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর কিছু কাজ করে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয় প্রকল্পটি। পরে দুই দফায় সময় বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ মেয়াদ অনুযায়ী আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি বিলের মাধ্যমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, প্রথমে যে ডিজাইন দেখানো হয়েছিল কাজের সময় তা পরিবর্তন ও সংকুচিত করা হয়েছে। এতে ব্রিজ, সংযোগ সড়ক ও সামনের রাস্তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, সঠিকভাবে মাটি ড্রেসিং না করা এবং তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার কারণে নির্মাণাধীন অবস্থাতেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে ও দেবে যাচ্ছে।
বর্ণী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক লুলাই মিয়া, যুবদল নেতা টুনু মিয়া, হেনু মিয়া, রুহেল আহমদ, ফয়ছল আহমদ, ব্যবসায়ী কাশেম আহমদ, রোখন মিয়া ও ছাত্রদল সভাপতি রেদওয়ান হোসেনসহ স্থানীয়রা জানান, কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন প্রভাব খাটায় এবং কারো কথা শোনে না। পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও রাস্তা সরু করায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। দুইবার সময় বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কাজে কোনো অনিয়ম হচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে বড়লেখা উপজেলা প্রকৌশলী মো. তারেক বিন ইসলাম বলেন, এলজিইডি জমি অধিগ্রহণ করে রাস্তা প্রশস্ত করতে পারে না। স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ জমি দিলেও অনেকে দেননি। জায়গার প্রাপ্যতা অনুযায়ী ডিজাইন করে কাজ করা হয়েছে। তবে নির্মাণাধীন রাস্তা ভেঙে পড়া ও দেবে যাওয়ার অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।