সিলেট৭১নিউজ ডেস্ক:: স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের প্রতারণার নতুন কৌশল হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবহার করছে সাইবার অপরাধীরা। বাংলাদেশ পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, র্যাব কিংবা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যবহারকারীদের কাছে কল ও মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রোফাইল ছবিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরা ব্যক্তি বা সরকারি প্রতীক ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির চেষ্টা করছে প্রতারকরা।প্রতারকদের মূল কৌশল হলো ভয় তৈরি করা। তারা ফোন করে দাবি করে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামে মামলা হয়েছে, তার মোবাইল নম্বর কোনো অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে অথবা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। এরপর দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে গ্রেফতার বা আইনি জটিলতার হুমকি দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।অনেক সময় প্রতারকরা অর্থের বিনিময়ে সমস্যা সমাধানের প্রস্তাব দেয়। আবার কেউ কেউ মেসেজে ক্ষতিকর লিংক পাঠিয়ে তাতে ক্লিক করতে বলে। এসব লিংকের মাধ্যমে ফোনে ম্যালওয়্যার বা ক্ষতিকর অ্যাপ প্রবেশ করতে পারে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট কিংবা ব্যক্তিগত ছবি চুরির ঝুঁকি তৈরি করে।
কীভাবে বুঝবেন এটি প্রতারণা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে কাউকে ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে না। অপরিচিত নম্বর থেকে কল, অস্বাভাবিক কথাবার্তা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি এবং গোপনে টাকা পাঠানোর নির্দেশ—এসব প্রতারণার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত।
এ ছাড়া প্রোফাইল ছবিতে পুলিশের পোশাক বা সরকারি লোগো থাকলেও সেটি আসল পরিচয়ের নিশ্চয়তা নয়। প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই এমন ভুয়া পরিচয় তৈরি করা যায়।প্রতারণামূলক কল বা মেসেজ এলে করণীয়
প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি যাচাই করুন।
কোনো অবস্থাতেই বিকাশ, নগদ, ব্যাংক বা অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন না।
অপরিচিত কোনো লিংকে প্রবেশ করবেন না এবং সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করবেন না।
ওটিপি, পিন, পাসওয়ার্ড, ব্যাংক তথ্য বা ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করবেন না।
কল বা মেসেজের প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করুন।
সন্দেহজনক নম্বর ব্লক করে হোয়াটসঅ্যাপে রিপোর্ট করুন।
সন্দেহ হলে কীভাবে নিশ্চিত হবেন?
কেউ নিজেকে পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তা দাবি করলেও তার কথার ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট থানা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে পরিচয় যাচাই করতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য দেওয়া বা অর্থ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
সাইবার অপরাধীরা সাধারণত মানুষের ভয়, অজ্ঞতা ও তাড়াহুড়াকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে। তাই অপরিচিত নম্বর থেকে আসা হোয়াটসঅ্যাপ কল, ভিডিও কল বা সন্দেহজনক বার্তার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কয়েক মিনিট সময় নিয়ে যাচাই করলেই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।পরিবারের বয়স্ক সদস্য ও প্রযুক্তি ব্যবহারে কম অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও এ ধরনের প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন করা প্রয়োজন, কারণ তারা অনেক সময় সহজেই এসব ফাঁদে পড়ে যেতে পারেন।