• সিলেট, ,

ষড়যন্ত্রের বলি সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আলী আকবর ?

admin
প্রকাশিত September 24, 2026
ষড়যন্ত্রের বলি সিসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আলী আকবর ?

এমদাদ হোসেন: কেন্দ্রে ও স্থানীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী শক্তির ইতিবাচক রাজনৈতিক হাওয়ার মধ্যেও সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) থামেনি অদৃশ্য চক্রের ষড়যন্ত্র। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে দীর্ঘকাল কোণঠাসা থাকার পর যিনি সিসিকের স্থবিরতা কাটাতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, সেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলী আকবরকেই এবার বদলি হতে হলো। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে তাকে দায়িত্ব দিয়ে সিলেট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত রোববার তিনি নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করেন।

অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সিসিক সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বদলির পেছনে রয়েছে সিসিককে অকার্যকর ও গণবিমুখ করার এক গভীর চক্রান্ত। সিসিকের অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিস্ট চক্রের গুপ্ত সদস্য ও স্বার্থান্বেষী মহলের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের এই পরীক্ষিত কর্মকর্তা।

 বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হল ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস এবং ১৯৯২-৯৩ সেশনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্যানেল থেকে নির্বাচিত ভিপি প্রকৌশলী মো. আলী আকবর ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে একজন মেধাবী ও তুখোড় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ২০০৭ সালে সিসিকে যোগদানের সময় তৎকালীন মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের বাধার মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে নাটোর পৌরসভা থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে সিসিকে যোগ দিলেও সাবেক সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে তাকে প্রতিনিয়ত কোণঠাসা করে রাখা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে বিএনপির সমর্থনে আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হলে প্রকৌশলী আলী আকবর তার মেধা ও কর্মদক্ষতা প্রকাশের সুযোগ পান। তবে ২০২৩ সালে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী সিসিকের মসনদে বসলে তিনি পুনরায় রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েন। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান প্রেষণে স্থানান্তরিত হলে, সিসিকের দায়িত্ব পড়ে পরীক্ষিত ও দেশপ্রেমিক এই প্রকৌশলীর কাঁধে।

সিসিকের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা সিসিকে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করে বিপুল অর্থ লোপাট ও দলীয়করণ করেছিল, তারা এখন নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে চরম শঙ্কিত। সিসিককে নিরাপদ আস্তানা বানাতে এবং নিজেদের গতিবিধি নজরদারির বাইরে রাখতে দেশপ্রেমিক ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার মিশন হাতে নিয়েছে এই চক্রটি।সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডির আড়ালে নাম-পরিচয় গোপন রেখে সিসিকের প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ঝড় তোলা হচ্ছে। আওয়ামী শাসনামলে সিসিক যখন দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছিল, তখন নীরব থাকা এই চিহ্নিত গোষ্ঠীটি এখন সিসিকের ভেতর লুকিয়ে থাকা গুপ্তচরদের অপতথ্য ব্যবহার করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

সিলেটকে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিলেট কেন্দ্রিক ব্যাপক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিসিকে সরকারবান্ধব ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে সিসিকের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে জনবান্ধব সিটি করপোরেশন গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া চলছে, তাতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে আলী আকবরের সংযোগ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী সিসিক নির্বাচনে বিএনপির সাফল্য নির্ভর করছে বর্তমান প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর।

কিন্তু অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের এক এক করে সরিয়ে দিয়ে নতুনদের এনে সিসিকে একটি নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানের পর প্রকৌশলী আলী আকবরের এই আকস্মিক বদলি সেই ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ বলে মনে করছেন বিজ্ঞ মহল। চক্রান্তকারীদের এই ‘রিমোট কন্ট্রোল’ মিশন সিসিকের কাজের পরিবেশ নষ্ট করার পাশাপাশি সিলেটবাসীর উন্নয়ন প্রত্যাশায় বড় ধরনের ধাক্কা দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেট৭১নিউজ/এমদাদ