• সিলেট, ,

বড়লেখায় ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা! D.H.F.P.A ডিগ্রি দিয়ে লিখছেন এন্টিবায়োটিকসহ উচ্চমাত্রার ওষুধ

admin
প্রকাশিত November 4, 2026
বড়লেখায় ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা! D.H.F.P.A ডিগ্রি দিয়ে লিখছেন এন্টিবায়োটিকসহ উচ্চমাত্রার ওষুধ

বড়লেখায় ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা! D.H.F.P.A ডিগ্রি দিয়ে লিখছেন এন্টিবায়োটিকসহ উচ্চমাত্রার ওষুধ

 

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মোহাম্মদনগর বাজারে সুভাসিনী ফার্মেসীতে বসে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে নিয়মিত রোগী দেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মন্টু চন্দ্র মহন্ত।

তার নিজস্ব প্যাডে লেখা একটি ব্যবস্থাপত্র ও একটি পুরোনো প্রশিক্ষণ সনদ এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে, যা থেকে তার চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যবস্থাপত্রে যা পাওয়া গেছে:

প্যাডের উপরে বড় করে লেখা —
ডাঃ মন্টু চন্দ্র মহন্ত, D.H.F.P.A (Dhaka)
চেম্বার: সুভাসিনী ফার্মেসী, মোহাম্মদনগর বাজার, বড়লেখা, মৌলভীবাজার।
মোবাইল: ০১৭২৯-৫৪২৬৯১

একই প্যাডে এক রোগীকে তিনি Candidert, Itracon, Azthrice-500, Ketotifen, Nimo Plus, Fenicort সহ ৬-৭ পদের ওষুধ লিখেছেন। এর মধ্যে রয়েছে এন্টিবায়োটিক, এন্টিফাঙ্গাল ও স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ, যা একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সেবন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

প্রশিক্ষণ সনদে যা আছে:

তার আরেকটি সনদে দেখা যায়, তার নাম Dr. Manta Chandra Mahanta, V.H. & F.A.। সেখানে উল্লেখ আছে তিনি *Primary Health Care, Child Health Education & Family Planning* বিষয়ে মাত্র তিন মাসের (০২-০৫-৯১ থেকে ০৭-০৮-৯১) একটি সংক্ষিপ্ত কোর্স করেছেন। ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান: M.W. Training & S.W. Organization (Syl. 13/88)। এটি কোনোভাবেই এমবিবিএস বা বিএমডিসি স্বীকৃত ডাক্তারি ডিগ্রি নয়।

আইন কী বলছে?

বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) আইন অনুযায়ী
১. BMDC রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবী ব্যবহার করতে পারবেন না।
২. D.H.F.P.A, D.M.F.A বা V.H. & F.A ডিগ্রি দিয়ে সরাসরি রোগী দেখা ও ব্যবস্থাপত্রে এন্টিবায়োটিক লেখা সম্পূর্ণ বেআইনি।
৩. এই আইন অমান্য করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের সহজ-সরল মানুষ ডিগ্রির পার্থক্য না বুঝে তার কাছে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে তারা অপচিকিৎসা ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং মৌলভীবাজার সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।