• সিলেট, রাত ৪:২৩, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

​বিয়ানীবাজারে পথরোধ করে হামলা: কুরবানির গরু কেনার টাকাসহ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই, থানায় মামলা

admin
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬
​বিয়ানীবাজারে পথরোধ করে হামলা: কুরবানির গরু কেনার টাকাসহ লাখ টাকার মালামাল ছিনতাই, থানায় মামলা

নজরুল ইসলামের প্রতিবেদনে।।

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারাবই বাজারে কুরবানির গরু কেনার নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে একদল দুর্বৃত্তের বিরুদ্ধে পথরোধ করে হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৬ মে (শনিবার) রাত আনুমানিক ০৯:৩০ ঘটিকার সময় চারাবই বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন পূর্বপাশের রাস্তার ওপর এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী দিলদার হোসেন খান (৬৬) বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন

​মামলার আসামিরা হলেন— চারাবই গ্রামের মৃত মুজম্মিল আলীর ছেলে ডালিম আহমদ (২৫) ও সাহিন উদ্দিন (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১ জন।

​এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে বাদী দিলদার হোসেন খান ও তার আপন ভাতিজা হাবিবুর রহমান খান (৪০) স্থানীয় তানভীর আহমদের বাড়িতে পালিত কুরবানির গরু দেখতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে চারাবই বাজার জামে মসজিদের পাশে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের পথরোধ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।

​গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ২নং আসামি সাহিন উদ্দিন লোহার জিআই পাইপ দিয়ে বাদীর মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাড়ে ও পিঠে লাগে। অন্যদিকে, ১নং আসামি ডালিম আহমদ লোহার রড দিয়ে বাদীর ভাতিজা হাবিবুর রহমানকে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে আসামিরা উভয়কে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে কাদায় ও মসজিদের দেয়ালে ফেলে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে জখম করে।

​মারধরের সময় আসামিরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে কুরবানির গরু ক্রয়ের জন্য সাথে রাখা নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২নং আসামি সাহিন উদ্দিন বাদীর সাথে থাকা গরু কেনার নগদ টাকা, হাতঘড়ি এবং টর্চলাইটসহ, লুট করে। এছাড়া ১নং ও অজ্ঞাতনামা আসামি ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে বাদীর ভাতিজা হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে গরু কেনার আরও নগদ, টাকা ছিনিয়ে নেয়।

​আক্রান্তদের চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দিলদার হোসেন ও তার ভাতিজা হাবিবুর রহমানকে বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয় মুরুব্বিদের অবগত ও পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী উল্লেখ করেন।

​বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দণ্ডবিধির ৩৪১/৩২৩/৩০৭/৩৭৯/৫০৬ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মানিক চন্দ্র তালুকদারকে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয় বিবাদীগণ, ডালিম আহমদ ও সাহিন উদ্দিন কে ফোন দিলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ।