• সিলেট, রাত ১:২৮, ৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ কর্তৃক তদন্তের (Investigation) কোনো পর্যায়ে আইনগতভাবে পুলিশকে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।

admin
প্রকাশিত জুন ৬, ২০২৬
থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ কর্তৃক তদন্তের (Investigation) কোনো পর্যায়ে আইনগতভাবে পুলিশকে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।

থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ কর্তৃক তদন্তের (Investigation) কোনো পর্যায়ে আইনগতভাবে পুলিশকে কোনো টাকা দেওয়ার নিয়ম নেই। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।

মোঃ নজরুল ইসলাম বড়লেখা মৌলভীবাজার

​বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল (PRB) অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলার তদন্ত করা পুলিশের একটি আইনগত ও দাপ্তরিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্র তাদের বেতন এবং আনুষঙ্গিক ভাতা প্রদান করে। সাধারণ জনগণের কাছ থেকে কোনো ফি বা খরচ নেওয়ার কোনো বিধান আইনে রাখা হয়নি।

​বাস্তব পরিস্থিতি এবং আইনি সুরক্ষার জন্য নিচে কিছু জরুরি বিষয় তুলে ধরা হলো:

​১. তদন্তের মূল আইনি প্রক্রিয়া

​পুলিশের দায়িত্ব: মামলা নথিভুক্ত (FIR) হওয়ার পর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা (IO) নিয়োগ করেন। মামলার ধারা অনুযায়ী তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ (১৬১ ধারা) এবং আলামত জব্দ করার মতো কাজগুলো করেন।

​চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট: তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে “অভিযোগপত্র” (Charge Sheet) অথবা অপরাধের প্রমাণ না মিললে “চূড়ান্ত প্রতিবেদন” (Final Report) জমা দেয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য সরকারের কোনো ফি নেই।

​২. যদি তদন্তের নামে টাকা দাবি করা হয়?

​যদি কোনো তদন্তকারী কর্মকর্তা বা থানার কোনো সদস্য মামলার তদন্ত দ্রুত করা, আসামি ধরা, কিংবা আপনার পক্ষে রিপোর্ট দেওয়ার নাম করে টাকা দাবি করেন, তবে সেটি সরাসরি দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে গণ্য হবে। এমন পরিস্থিতিতে আপনি নিম্নলিখিত আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন:

​ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা: সরাসরি সার্কেল এসপি (Circle SP), জেলা পুলিশ সুপার (SP), অথবা রেঞ্জ ডিআইজি (DIG)-র কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানাতে পারেন।

​পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কমপ্লেইন সেল: পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট কমপ্লেইন সেলে (যেমন: “আইজিপি কমপ্লেইন সেল”) সরাসরি বা ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করা যায়।

​দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক): ঘুষ দাবি করার বিষয়টি আপনি দুদক-এর হটলাইন নম্বর ১০৬-এ কল করে সরাসরি জানাতে পারেন।

​সচেতনতামূলক বার্তা:

আইনি অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় তৃতীয় পক্ষ বা দালাল চক্র পুলিশের নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন, তবে কোনো ধরণের অবৈধ আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। কোনো সমস্যা হলে সরাসরি কোনো অভিজ্ঞ আইনজীবীর আইনি পরামর্শ নিন।