বিশ্বনাথ প্রতিনিধি : সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের টেংরা গ্রামে বসতবাড়ি দখলকে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন একজন। হামলার মূল টার্গেট ছিলেন যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক যুবক বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেংরা গ্রামের বাসিন্দা মো. তছির আলীর পরিবারের সঙ্গে একই গ্রামের মো. আব্দুস সালাম ও তার লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তছির আলীর দাবি, তার পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল প্রতিপক্ষ।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫) দুপুরে আব্দুস সালাম তার সহযোগীদের নিয়ে তছির আলীর বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করে। এসময় বাধা দিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়। এতে তছির আলী, তার স্ত্রী মিনারা বেগম ও ছেলে মো. মখদ্দুছ আলী আহত হন।
পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের মূল টার্গেট ছিলেন তছির আলীর বড় ছেলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুছ (২৭)। তবে তিনি বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে রক্ষা পান। অভিযোগ রয়েছে, দুই ছেলেকে হত্যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা ছিল প্রতিপক্ষের।
গুরুতর আহত মখদ্দুছ আলীকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে।
তছির আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমার বাড়ির পেছনে আব্দুস সালামের জমি রয়েছে। তারা চেয়েছিল আমার জমি কিনে একসঙ্গে বড় বাড়ি করতে। আমি রাজি না হয়ে আমার দুই ছেলে—যুক্তরাজ্য প্রবাসী আব্দুল কুদ্দুছ ও মখদ্দুছ আলীর নামে সম্পত্তি লিখে দেই। এরপর থেকেই তারা আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা বিচার মানছে না। হামলার পর থানায় গেলেও মামলা নিতে গড়িমসি করা হচ্ছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. আব্দুস সালাম বলেন, “জমি কেনাবেচা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়েছে। হামলার বিষয়টি পরে কথা বলবো।”
এ বিষয়ে বিশ্বনাথ থানা র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে শুনেছি। স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” মামলা গ্রহণ না করার বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধ হওয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”