• সিলেট, দুপুর ২:৪৬, ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাফলংয়ে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক-দুটি ঘর ভাঙায় ক্ষোভ, প্রশ্নে প্রশাসনের ভূমিকা

admin
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬
জাফলংয়ে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক-দুটি ঘর ভাঙায় ক্ষোভ, প্রশ্নে প্রশাসনের ভূমিকা

নিজস্ব প্রতিবেদক:জাফলংয়ে উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে বিতর্ক-দুটি ঘর ভাঙায় ক্ষোভ, প্রশ্নে প্রশাসনের ভূমিকাসিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযানে নির্মাণাধীন দুটি ঘর ভেঙে ফেলার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঘর মালিকদের মাঝে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ, অসন্তোষ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন।

প্রশাসনের দাবি—পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য রক্ষা, সরকারি খাস জমি দখলমুক্ত রাখা এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম, দখলদারিত্ব কিংবা প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল বরদাস্ত করা হবে না।

তবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মালিকদের অভিযোগ—এ অভিযান ছিল সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, একই এলাকায় সরকারি খাস জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে প্রায় শতাধিক স্থাপনা বহাল থাকলেও কখনো প্রশাসনের নজর পড়েনি। অথচ হঠাৎ করেই শুধুমাত্র দুটি ঘর টার্গেট করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জাফলং পর্যটন এলাকায় এর আগে এমন বাছাই করে উচ্ছেদের ঘটনা দেখা যায়নি। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নতুন প্রশ্ন। প্রশ্ন উঠছে—আইন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে চলছে বেছে বেছে উচ্ছেদ অভিযান?

(উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী) জানান,
“জাফলং পর্যটন এলাকার সরকারি খাস জমি ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী সরকারি জমিতে অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে না। পর্যটন এলাকার সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ প্রশাসনের দায়িত্ব। শুধুমাত্র দুটি ঘর নয়, পর্যায়ক্রমে সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধেই অভিযান চলবে। এখানে কাউকে টার্গেট করা হয়নি; সম্পূর্ণ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে।”

জাফলংয়ের মতো দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নতুন নয়। তবে শতাধিক স্থাপনা রেখে মাত্র দুটি ঘর ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। এখন সবার চোখ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—সত্যিই কি সব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে সমানভাবে অভিযান চলবে, নাকি এই উচ্ছেদ শুধু নির্বাচিত কয়েকজনের জন্যই সীমাবদ্ধ থাকবে।