স্টাফরিপোর্টার:: অভিযান ঠেকাতে মব সৃষ্টির অপচেষ্টার অভিযোগ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে:- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালা উদ্দিন আহমদ।
সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, বিজিবি।
গত ১০ দিনে উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ, হুইস্কি ও ফেনসিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য আটক করেছে বিজিবি।
এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিজিবির অভিযান জোরদারের পরই একটি মহল সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তা অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি এবং মব তৈরির মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান কঠোর হওয়ায় অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িতদের ওপর চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত মিনি ট্রাক ও ডিআই গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় একটি চক্রের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
এরই মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর সময় একটি ডিআই গাড়ি আটককে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আহত সদস্যকে প্রথমে জৈন্তাপুরে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলেই সাধারণ মানুষকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা কিংবা মব তৈরির চেষ্টা করা হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কারণ, এর ফলে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি সিলেট সফরে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্তসহ দেশের যেকোনো এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে বাধা সৃষ্টি কিংবা মব তৈরির চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযান কোনোভাবেই থামবে না। অভিযানে কেউ বাধা দিলে কিংবা সরকারি কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রত্যাশা—মাদক ও চোরাচালান নির্মূলে বিজিবি ও প্রশাসনের অভিযান আরও জোরদার করার পাশাপাশি মব সৃষ্টি, রাস্তা অবরোধ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনায়ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জননিরাপত্তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে