নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্য-এ অবস্থান করলেও সাম্প্রতিক সময়ে দায়ের হওয়া ফৌজদারি ও হত্যা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আল আমিন দীর্ঘদিন ধরে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ২০১৭ সালে রুস্তমপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০১৯ সালে গোয়াইনঘাট উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পদে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণেই স্থানীয় প্রতিপক্ষের টার্গেটে পরিণত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানা-এ দায়ের করা একটি মামলায় (মামলা নং ০৬/৪০৫) আল আমিনকে ৮ নম্বর আসামি করা হয়। পরবর্তীতে ১ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে একই থানায় দায়ের হওয়া আরেকটি মামলায় (মামলা নং ০৪/৪৪৩) তাকে ৬ নম্বর আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অথচ তিনি ২০২২ সাল থেকেই যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। প্রবাসে থাকা অবস্থায় তাকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখিয়ে আসামি করায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু আল আমিনই নন, তার বৃদ্ধ পিতা মোঃ বরকত আলীকেও বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আল আমিনের আইনজীবী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি বলেন, “বিদেশে অবস্থানরত একজন ব্যক্তিকে সরাসরি হত্যা মামলায় আসামি করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। এদিকে, আল আমিনের গ্রামের বাড়ি বগাইয়া হাওর এলাকায় একাধিকবার পুলিশি অভিযান পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও সুদের কারবারিদের হুমকির মুখে তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।