নিজস্ব প্রতিনিধি নজরুল ইসলাম বড়লেখা।
মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ারুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
জানা যায়, আনোয়ারুল ইসলামের জন্ম ১ এপ্রিল ১৯৭২ সালে বড়লেখা উপজেলায়। তার পিতা মৃত আজিম উদ্দিন এবং মাতা মৃত হাজী জয়নব বিবি। তিনি বিবাহিত এবং তিন সন্তানের জনক। তার সন্তানরা হলেন—নাঈম মাহমুদ, সিদরাতুল মুনতাহা ও আয়াত ইসলাম।
শিক্ষাগতভাবে তিনি বি.এ. এল. এল. বি (শেষ বর্ষ, ফলাফল প্রত্যাশী) অধ্যয়নরত। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং “আনোয়ার এগ্রো ফার্ম”-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাৎসরিক আয় প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা, যা ব্যবসা ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে আসে। তিনি নিয়মিত আয়কর প্রদান করে থাকেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি ছাত্রদল দিয়ে পথচলা শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে পিসি হাইস্কুল ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক, ১৯৮৭ সালে সিলেট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং ১৯৯২ সালে বড়লেখা উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে যুবদল ও বিএনপির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি পৌর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
১৯৮৭ সালে তৎকালীন এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তার বিরুদ্ধে ৭/৮টি মামলা দায়ের করা হয় এবং তিনি স্বল্প মেয়াদে ডিটেনশন ভোগ করেন।
এছাড়া জিআর ১৪১/২৫ নং একটি মামলায় সাবেক বনমন্ত্রীর দায়ের করা মামলায় তিনি এক মাস কারাভোগ করেন এবং পরবর্তীতে খালাস লাভ করেন। উক্ত মামলায় তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হন বলে জানা গেছে।
নির্বাচনী রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৫ ও ২০২০ সালে বড়লেখা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে একাধিক মামলা দায়ের হলেও ২০১৮, ২০২০ ও ২০২১ সালের কয়েকটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। তবে ২০২২ সালের একটি বিস্ফোরক আইনের মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, তার পৈত্রিক সম্পত্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। এছাড়া বাড়ি ও কৃষি জমি (প্রায় ১৬০ শতক) যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা, আসবাবপত্র প্রায় ৬ লক্ষ টাকা এবং নগদ প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা রয়েছে।
সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। তিনি নারী শিক্ষা একাডেমির গভর্নিং সদস্য, বড়লেখা প্রেসক্লাবের সভাপতি, উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি “Nepal International Excellence Golden Award-2024” এবং “Nelson Mandela Peace Award-2024” অর্জন করেছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে নসিব আলী নামে একজন ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রয়েছেন। তবে প্রকাশ্যে তার কোনো শত্রু নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এছাড়াও বড়লেখা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী আবদুল কাদির পুলাশ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনীতি, ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আনোয়ারুল ইসলাম বড়লেখা উপজেলায় একটি পরিচিত ও প্রভাবশালী নাম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।