• সিলেট, ভোর ৫:০৭, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাফলংয়ে দানবযন্ত্রে বালু–পাথর লুটপাট আতঙ্কে স্থানীয়রা

admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
জাফলংয়ে দানবযন্ত্রে বালু–পাথর লুটপাট আতঙ্কে স্থানীয়রা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট (সিলেট):সিলেটের পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের ঝুমপাড় এলাকায় রাতের আঁধারে অব্যাহতভাবে চলছে বালু ও পাথর লুটপাট—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে পরিচিত শামসুল উরফে কালা শামসুলের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শামসুল পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন স্থাপনা ও শ্রমিকদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন। আরও অভিযোগ রয়েছে—গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ও জাফলং বিট পুলিশের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় প্রকাশ্যেই আইন লঙ্ঘনের পরও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে শামসুলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রতিবেদকের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। একই সঙ্গে নিউজ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিবেদককে প্রলোভন দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিরাতে ঝুমপাড় এলাকায় দানব আকৃতির পেলোডার ও স্কেভেটর দিয়ে নদী ও আশপাশের এলাকা খুঁড়ে বালু-পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। শতাধিক ট্রাকে করে এসব বালু-পাথর বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং দ্রুত ভাঙনের মুখে পড়ছে আশপাশের জনপদ, কৃষিজমি ও বসতভিটা।

নয়াবস্তি এলাকার জাকির হোসেন বলেন, “রাতে মেশিন চলে, ট্রাক চলে—কেউ বাধা দেয় না। অভিযোগ করতেও ভয় লাগে। সবাই বলে পুলিশ সব জানে।”

এ বিষয়ে বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার রানা বলেন,“জাফলংয়ে যা ঘটছে, তা কেবল পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘন। ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী কৃষিজমি বা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি ও পাথর কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো জনবসতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে বালু উত্তোলন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, জাফলংয়ের মতো সংকটাপন্ন এলাকায় ড্রেজার বা বোমা মেশিনের মতো ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।”

এদিকে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান প্রতিবেদককে জানান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিন্তু স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি অভিযান চলমান থাকে, তাহলে কীভাবে প্রতিরাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে এমন লুটপাট সম্ভব হচ্ছে? কার ছত্রছায়ায় বছরের পর বছর ধরে চলছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জাফলংয়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জনপদ রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

সিলেট ৭১ নিউজ/টিআর/ই আ