নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের জাফলংয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করেই লাখের পাড় ও আসামপাড়া এলাকায় দিন-রাত চলছে অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলন। এর ফলে একদিকে যেমন শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শত শত ঘরবাড়ি।সরেজমিনে দেখা গেছে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রকাশ্যেই ভারী যন্ত্রপাতি (যেমন—বোমা মেশিন বা সেভলন পাম্প) বসিয়ে নদীর তলদেশ ও তীরের মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করছে। শত শত ট্রাকে করে এই বালু ও পাথর পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। অনিয়ন্ত্রিত এই উত্তোলনের ফলে পিয়াইন নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জাফলং এলাকা ট্রাক চালক সমিতির সাবেক সভাপতি ফয়জুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় প্রশাসনের একাংশকে ‘ম্যানেজ’ করে এই সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ভয়ে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, তাদের চোখের সামনে আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না কেউ।
এই বিষয়ে বিশিষ্ট পরিবেশবাদী ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট অরুপ শ্যাম বাপ্পী বলেন “জাফলংয়ে যা ঘটছে তা কেবল পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং প্রচলিত আইনের চরম লঙ্ঘন। ‘বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০’ অনুযায়ী কৃষিজমি বা নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি ও পাথর কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী, কোনো জনবসতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করে বালু উত্তোলন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, জাফলংয়ের মতো সংকটাপন্ন এলাকায় ড্রেজার বা বোমা মেশিনের মতো ভারী যন্ত্রপাতির ব্যবহার নিষিদ্ধ।”
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, অবৈধ বালু ও পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং জরিমানা করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের এই দাবি আর মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্রের মধ্যে বড় ধরনের ফারাক দেখছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের দাবি, কেবল জরিমানা বা লোকদেখানো অভিযান নয়, বরং এই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায়, তীব্র ভাঙনের মুখে অচিরেই মানচিত্র থেকে মুছে যেতে পারে লাখের পাড় ও আসামপাড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী জনপদ।
সিলেট৭১নিউজ/টিআর/ই আ