জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সিলেটের ন্যায্য হিস্যা অবশ্যই আদায় করা হবে। যেসব ক্ষেত্রে সিলেটবাসী বঞ্চিত সেসব ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল তিনটায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্টিত জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন।
সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত সভায় ডা. শফিক বলেন, আমি প্রধানন্ত্রী হবো কি না, তার ফয়সালা আল্লাহর হাতে। তবে তাঁর তেমন ইচ্ছা হয় তাহলে সিলেটের বঞ্চনার অবসান হবে। দীর্ঘদিন থেকে সিলেট অঞ্চল যেসব সমস্যায় জর্জরিত তার অবসান হবে।
তিনি সিলেট অঞ্চলের প্রধান কয়েকটি সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, সিলেটের নদ-নদীগুলো এখন কংকালে পরিণত হয়েছে। দখল দূষণে একাকার। আমরা অন্যান্য দেশ যেভাবে নদীগুলোকে বাঁচিয়ে রেখেছে, তার স্বাভাবিক গতিপথ ধরে রেখেছে আমরাও তাই করবো।
তিনি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এটাকে নামে আন্তর্জাতিক করে ফেলে রাখা হয়েছে। পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত না করায় এখানে সব ধরনের বিমান বা এয়ারক্রাফট উঠানামা করতে পারেনা। আমরা ক্ষমতায় গেলে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ এবং স্বয়ং সম্পূর্ণ আন্তর্জাকি বিমানবন্দরে রূপান্তর করবো এ প্রসঙ্গে তিনি বিমানে ম্যানচেষ্টার ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা উল্টো হাটবো কেন, চিংড়ি মাছের মতো উল্টোতো হাঁটার কথা নয়। আমরা সিংহের মতো এগিয়ে যাবো। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে ম্যানচেষ্টার ফ্লাইটতো চালু হবেই, আমরা আরও নতুন নতুন রুটে ফ্লাইট চালু করবো।
সিলেট অঞ্চলের প্রবাসীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষ প্রবাসে যায়। তাদেরকে মুখে রেমিট্যান্স যোদ্ধা বলা হয়। কিন্তু কেউ মধ্যপ্রাচ্যে মারা গেলে তার লাশ দেশে ফেরাতে শুরু হয় ঠেলাঠেলি। বিষয়টি অত্যন্ত অসম্মানজনক। আমরা এর অবসান ঘটাবো। সসম্মানে তাদের লাশ দেশে ফেরাবো। এমনকি কোনো প্রবাসী আয় রোজগারের আগে মারা গেলে তার পরিবারের দায়িত্ব সরকার নিবে দেশ নিবে- আমরা তেমন একটা ব্যবস্থা করবো।
তিনি হাওলাঞ্চলের রাজধানী হিসাবে পরিচিত সুনামগঞ্জের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, সারাদেশের ধানের চাহিদা পূরণ হয় যে সুনামগঞ্জের ধান দিয়ে সেই সুনামগঞ্জের হাওরের বাঁধগুলো নাকি ইদুরে কেটে ফেলে? ইদুরতো কাটবেই। কারণ, না কাটার ব্যবস্থার টাকাতো চলে যায় কিছুসংখ্যক দুর্ণীতিবাজের পেটে। আমরা সেটা বন্ধ করবো এবং সুনামগঞ্জকে দেশের কৃষিখাতের রাজধানী করবো ইনশাল্লাহ।